Shadow

পছন্দের মেয়ে যখন আমাকে ভালোবাসে

পছন্দের মেয়ে

পছন্দের মেয়ে যখন আমাকে ভালোবাসে

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছি আর চারতলার বারান্দায় মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি । এতদিন ধরে তার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে

আছি কিন্তু আজও তার সাথে কথা বলা তো দুরের কথা বরং নামটাই জানি না ।

প্রতিদিন সন্ধ্যার একটু আগে টিউশনি করাতে যাবার সময়ে দেখি মোহাবলীপুড় মোড়ের সামনে চারতলার এক বারান্দায় একটা

মেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।

পছন্দের মেয়ে যখন আমাকে ভালোবাসে

প্রথম প্রথম দু তিন দিন শুধু চোখে পরতো আর আমি অন্য দিকে তাকিয়ে চলে যেতাম ৷ কিন্তু যখন প্রতিদিন তার সাথে দেখা

হতো তখন ১০–১২ দিন পরে আমারও একটা অভ্যাস হয়ে গেল ।

মোড় পার হয়ে তাকে দেখতে না পেলে মনটা খারাপ হয়ে যায় । মুখটা কালো করে চারিদিকে একবার দুবার তাকিয়ে আবারও

তাদের বারান্দায় তাকিয়ে দেখি ।

এতদিনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বোঝা যাচ্ছে মেয়ে টা নীল রং খুব পছন্দ করে ৷ সবসময় তার পরনে নীল রঙের ড্রেস পরতে দেখা যায়

। চুল গুলো খোলা রেখে বাম দিক দিয়ে সামনে এনে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ৷ আমি তার সাথে কথা বলতে অনেক চেষ্টা করেছি

কিন্তু আমার মনে হয় সে বাসা থেকে বের হয়না কখনো ।

পছন্দের মেয়ে যখন আমাকে ভালোবাসে

তাদের বাসার সামনে রাস্তার ফুটপাতে একটা ফুচকা চটপটির অস্থায়ী দোকান । দোকানদারের নাম মজনু মিয়া ৷ তার হাতের

চটপটি কিংবা ফুচকা আমাদের সব বন্ধুরা কম বেশি খেয়েছি । আর মেয়েটিকে দেখার জন্য এখন প্রতিদিন এক প্লেট করে ফুচকা

খাই আমি । কিন্তু যার জন্য এতকিছু সে কখনো কি আমার দিকে তাকিয়েছে ? হঠাৎ করে দু একবার চোখে চোখ পরে কিন্তু

চারতলার উপরে স্পষ্ট করে কিছু বোঝা যায় না ।

মেসের মধ্যে আমার দুজন রুমমেট আছে , মুজাহিদ  মেসকাত  আর আমি মিলে এক রুমে থাকি । ওদের সাথে মেয়েটির কথা

সবকিছু খুলে বললাম আর ওরাও পরের দিন আমার সাথে যাবে বলে ঠিক হলো ।

মেসের সামনে বাদল মামার ফ্লেক্সিলডের দোকান । তার সাথে আমার অনেক বন্ধুত্ব সম্পর্ক তাই আমি মেসের মধ্যে অবসর

সময় টা তার কাছে দোকানের মধ্যে কাটাই । আর বাকি সময় টা গল্প লিখি ।

বন্ধুদের মধ্যে আমি কবি হিসেবে পরিচিত কারণ ফেসবুকে নিয়মিত গল্প লেখার চেষ্টা করি । এজন্য কলেজ বন্ধুদের মধ্যে সবাই

আমাকে খুব পছন্দ করে সেটা আমি জানি ।

পছন্দের মেয়ে যখন আমাকে ভালোবাসে

মেয়েটিকে প্রথম দেখার পর থেকে ২ মাস এর মত পার হয়ে গেছে তবে সঠিক দিন টা মনে নেই । এখনো আমি শুধু চাতক পাখির

মতো তার দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করি । কিসের জন্য অপেক্ষা সেটা নিজেও জানিনা আমি তবে সপ্তাহে যেদিন টিউশনি বন্ধ

থাকে সেদিনও আমি তার বাসার সামনে গিয়ে তাকে দেখে আসি । এটা কি শুধু ভালো লাগা ?

★★

এখন ডিসেম্বর মাস, ছোট বোনের বিয়ে নিয়ে কথা চলছে তাই কলেজ ও টিউশনি থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি রওনা দিলাম ।

বাড়ি যদিও বেশি দুরে না কিন্তু টিউশনির জন্য বিগত ৪ মাস গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয়নি ।

মেস থেকে বের হয়ে ইজিবাইক করে কালিতলা বাস স্টেশনে আসলাম । এখান থেকে দিনাজপুর জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া এবং

পৌঁছাতে সময় লাগে দুই ঘন্টা । সেখান থেকে ইন্দুরকাণী ঘোসেরহাট ৩০ টাকা এবং তারপর আবারও বাইকে কিংবা ভ্যান গাড়ি

করে আমাদের গ্রামের বাড়ি ।

পছন্দের মেয়ে

পছন্দের মেয়ে
পছন্দের মেয়ে

দিনাজপুরের বাসে উঠে বসে আছি , কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে ( সরি দীপান্বিতা ) গানটি চালিয়ে ডাটা অন করে ফেসবুকের মধ্যে

গেলাম । অনেক অনেক কমেন্টের রিপ্লাই করা লাগে তাই মাঝে মাঝে সময় নিয়ে সুন্দর করে রিপ্লাই দি ।

গতকাল পোস্ট করেছিলাম নতুন গল্প ( মায়াবতী ) আর সেই গল্পের কমেন্টের এখনো রিপ্লাই করা হয়নি বলে এখন করতে ইচ্ছে হলো । একে একে কমেন্টের রিপ্লাই করি এমন সময় একটা কমেন্ট দেখে অবাক হলাম খুব ।

( ভালবাসা অবিরাম ) নামের একটা আইডি থেকে ৬ লাইনের একটা কমেন্ট । যদিও বাংলিশ ভাষায় টাইপ করা ছিল তবে আমি যদি সেটা বাংলাতে লিখি তবে সেটা হবে এমন ।

** কাব্য সাব্বির , চারদিন আগে আমি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে মেসেজ রিকোয়েস্ট ও পাঠিয়ে দিয়েছি । কিন্তু এখনো আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলেন না আর মেসেজ এর রিপ্লাই ও করেন নি । কারণ টা জানতে পারি ? তবে আপনি না বললেও বুঝতে পারছি যে, অসংখ্য মেয়ে পাঠিকা নিয়ে বিজি তাই নতুন পাঠিকা দেখার সময় নেই । ভদ্র ছেলের মত রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেন । **

আমি সাথে সাথে তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করে মেসেজ চেক করতে মেসেঞ্জারে গেলাম । ওমা,, মেসেঞ্জারে গিয়ে তো আমি চোখ ছানাবড়া হবার মত অবস্থা । মনে হয় সবগুলো মিলিয়ে যেন ছোট খাটো একটা গল্প লেখা হলো ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.